শনিবার, ০৪ Jul ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন

ব্যাংকিং খাতে কারসাজিতে বৈষম্য বাড়ছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

অর্থনীতি ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : ব্যাংকিং খাতে কারসাজির কারণে দেশে আয় বৈষম্য বাড়ছে। এক্ষেত্রে ব্যাংক কমিশন গঠন একটি ভালো পদক্ষেপ হতে পারে। যদিও এ ইস্যুতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে আর্থিক খাতের সুষ্ঠু বিকাশে আস্থা, দায়বদ্ধতা ও বিশ্বস্ততা খুবই প্রয়োজন। রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এ কথা বলেছেন।

শুক্রবার তেজগাঁওয়ে চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিতে ব্যাংক কমিশন গঠন নিয়ে এক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় পরিকল্পনামন্ত্রী এ কথা বলেছেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রিয়াজুর রহমান চৌধুরী ও অ্যাকাউন্টিং অ্যালামনাইয়ের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার আপসহীন। তবে সরকার ইচ্ছা করলেই প্রক্রিয়াগত কারণে দ্রুতগতিতে খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারবে না। ব্যাংকিং খাতের আত্মসাৎ করা অর্থ আদায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করার কথা বলা হলেও এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া। তবে প্রচলিত আইনে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এই অর্থ আদায়ের চিন্তাভাবনা সরকারের আছে।

তিনি বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক খাতে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন হলেও ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম আমাদের জন্য একটি কালো দিক। এছাড়া এ খাতে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, উন্নয়ন হচ্ছে, তবে লুটপাটও হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ বলেন, খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে স্বাধীন ব্যাংক কমিশন গঠন করতে পারাটা হবে সরকারের জন্য সাহসী পদক্ষেপ। গত এক দশকে অর্থনীতিতে সরকারের অনেক সফলতা থাকলেও ব্যর্থতার তালিকাটাও ছোট নয়। বিশেষ করে একের পর এক ঋণ কেলেঙ্কারি, অর্থ আত্মসাৎ, রিজার্ভ চুরি, বেসিক ব্যাংকের জালিয়াতি, ফারমার্স ব্যাংকের পতন, পিপলস লিজিংয়ের অবসায়ন, খেলাপি ঋণের আকার বৃদ্ধি, পুুঁজি বাজারের কারসাজি, শেয়ার মার্কেট লুট, চিহ্নিত ঋণখেলাপিদের বারবার সুযোগ প্রদান ইত্যাদি কলঙ্কিত ঘটনা আর্থিক খাতকে ব্যাপক দুর্বল করে ফেলেছে। তাই স্বাধীন ব্যাংক কমিশন গঠন করে আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছাই পারে আর্থিক খাতে লুটতরাজের এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে। এর জন্য প্রয়োজন জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা। যাতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে ব্যাংকাররা ঋণ প্রদানে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। গ্র্যান্ডফাইনালে বিজয় নিশান দলকে পরাজিত করে উত্তাল মার্চ দল চ্যাম্পিয়ন হয়।

বিচারক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল আমিন, প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টেন্ট আবুল বশির খান, সাংবাদিক দৌলত আক্তার মালা, নারী উদ্যোক্তা সানজিদা আক্তার খানম, উন্নয়ন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. এসএম মোর্শেদ।

প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলকে ১ লাখ ও ৫০ হাজার টাকাসহ ক্রেস্ট, ট্রফি ও সনদপত্র দেয়া হয়।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com